
খোসলা কমিশনের রিপোর্ট
৯৪৫ সনের ১৮ অগস্ট তারিখে বিমানপোতের দুর্ঘটনায় নেতাজী সুভাষচন্দ্রের অপমৃত্যু সম্বন্ধে যে সংবাদ প্রচলিত আছে তাহার সত্যাসত্য নির্ণয়ের জন্য ভারত সরকার ১৯৫৬ সনের এপ্রিল মাসে শাহনওয়াজ খানের নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধান সমিতি গঠন করেন। সুভাষচন্দ্রের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ছাড়া এই সমিতির অন্য সকল সদস্যই মত প্রকাশ করেন যে ফরমোসা দ্বীপের তাইহোকু শহরের নিকট বিমান-বন্দরে অগ্নিদগ্ধ হইয়া নেতাজীর মৃত্যু হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত অনেকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন নাই এবং পুনরায় এ-বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য অনেক আন্দোলন হয়। ইহার ফলে ভারত সরকার পুনরায় এ সম্বন্ধে তদন্তের জন্য পঞ্জাব প্রদেশের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জি ডি. খোসলাকে নিযুক্ত করেন (১১ জুলাই ১৯৭০)। প্রায় চারি বৎসর পরে তাহার রিপোর্ট প্রকাশিত হইয়াছে (৩০ জুন ১৯৭৪)। এই রিপোর্ট সম্বন্ধে অনেকেই বিরূপ মত প্রকাশ করিয়াছেন। ভবিষ্যতে এই রিপোর্টের প্রকৃত মূল্যায়নের সাহায্য করিবার জন্য এ-বিষয়ে কয়েকটি মন্তব্য করাই এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য। আমার মতে এই রিপোর্টটি প্রকৃত সত্যানুসন্ধানী নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত বলিয়া গ্রহণ করা কঠিন। ইহার কয়েকটি কারণ সংক্ষেপে উল্লেখ করিব-সমগ্র রিপোর্টটির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার করা আমার উদ্দেশ্য নহে।

